শাজাহানপুরে নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতা বন্ধের দাবীতে গ্রামবাসির মানববন্ধন

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ

0 ১৪০

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ফুলকোট গ্রামে নির্বাচনী বিরোধের জের ধরে দুই কৃষককের শিমের মাঁচা কর্তনের ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।

অপরদিকে দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতা বন্ধের দাবীতে ফুলকোট গ্রামের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে সোমবার বিকেলে উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ শেষে মানবন্ধন করেছে গ্রামবাসি।

জানা গেছে, গত শনিবার গভীর রাতে উপজেলার ফুলকোট পুর্বপাড়া গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে আজাহার আলীর ও তার ভায়রা একই গ্রামে আল মাহমুদ শাহের ছেলে আব্দুল হামিদ ওরফে কাজলের ৩৪ শতক জমির শিমের মাঁচা কেটে ফেলে দূর্বৃত্তরা। এঘটনায় আজাহার আলী বাদি হয়ে ১০জনকে অভিযুক্ত করে রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আজাহার আলী জানান, তিনি তার বাড়ির পূর্বপাশে ১৬ শতক জমিতে শিমের চাষ করেছেন। রোববার সকালে জমিতে গিয়ে দেখতে পান তার সমস্ত শিমের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একই সাতে তার ভায়রা আব্দুল হামিদ ওরফে কাজলের ১৮ শতক জমির শিমের মাঁচা কেটে ফেলা হয়। এতে করে তাদের প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী নজরুল ইসলাম নয়নের কর্মী ছিলেন তারা। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্র্মীদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জের ধরেই ক্ষতি করার উদ্যেশ্যে তাদের শিমের মাঁচা কেটে ফেলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আবুল কাছেম সরকার নামে ফুলকোট গ্রামের এক কৃষক বলেন, গ্রামে এর আগে এরকম ঘটনা ঘটেনি। শত্রুতা বাড়িয়ে দিতে তৃতীয় পক্ষের কোন দূস্কৃতিকারী এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

সদ্য পরাজিত ইউপি সদস্য জাহিদুর রহমান উজ্জল জানান, গাছ কে কেটেছে তা বলা মুশকিল। নিজেরা নিজেদের গাছ কেটে অন্যদের মামলায় ফেলানোর সম্ভাবনাই বেশি। এর আগেও আজাহার আলীর গাছ কাটার ঘটনা ঘটে ছিল। নিজ মেয়ে জামাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছিলেন তিনি। যদি সত্যিই অন্য কেউ গাছ কেটে থাকে তবে অবশ্যই তার বিচার হওয়া দরকার।

নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম নয়ন জানান, একজন কৃষকের কাছে ফসল তার সন্তানের মত। ভরা মৌসুমে নিজের ফসল নিজে কেটে ফেলা সম্ভব নয়। অপরাধী যেই হোক তাকে সনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে চরম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচন পরবর্তি সময়ে সহিংসতা বন্ধের দাবী জানান তিনি।

থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রকৃত অপরাধীকে সনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। অপরাধী সনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উত্তর দিন

আপনার সকল তথ্য যেমন ইমেইল, ফোন নম্বর এর সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে।